বলিউডের অন্যতম সফল জুটি বিশাল ভরদ্বাজ ও শাহিদ কাপুর আবারও একত্রিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের প্রতীক্ষিত ছবি ‘রোমিও‘ মুক্তি পেয়েই দর্শকমহলে আলোড়ন তুলেছে। গ্যাংস্টার, পুলিশ, খুনি আর প্রতিশোধের এই গল্পে স্টাইল আর সোয়্যাগ যেন চরিত্র হয়ে হাজির। তবে স্টাইল যেখানে চরমে, সেখানে কি গল্প খানিক ম্রিয়মাণ? আসুন, শাহিদ কাপুরের রোমিও মুভি রিভিউ ২০২৬-এর এই বিশ্লেষণে বিস্তারিত জেনে নিই।
Romeo Movie Shahid Kapoor 2026
ছবির শুরু থেকেই দর্শক ধরা পড়েন বিশাল ভরদ্বাজের জাদুতে। ভিজ্যুয়াল টোন, চরিত্রের রঙিন উপস্থিতি আর আকর্ষণীয় সংলাপ ছবিকে অন্য মাত্রা দেয়। হঠাৎ করেই গানে মেতে ওঠে চরিত্ররা, আর সেই গানের কথায় গুলজারের স্বাক্ষর যেন এক ভিন্ন অনুভূতি এনে দেয়। বলিউডি গানে বহুদিন পর ‘দুবলা’ শব্দ শুনে হলঘরে হাসি ফুটে ওঠার মতো দৃশ্য ছবিটিকে স্পেশাল করেছে। এটি এস হুসেন জাইদির বই Mafia Queens of Mumbai অবলম্বনে তৈরি। কিন্তু ছবির ভিত যেন একটু নড়বড়ে। উচ্চতা আর ভাটার মাঝেই দুলতে থাকে গল্পের ক্যানভাস।
শাহিদ কাপুরের অভিনয়
শাহিদ কাপুর তাঁর চরিত্র ‘উস্তরা‘ নিয়ে ফিরেছেন। উস্তরা মানেই ক্ষুরধার, আর শাহিদ সেই নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। তাঁর যত্নে তৈরি রাফিশ লুকে দারুণ স্ক্রিন প্রেজেন্স। নির্মমতা, শারীরিক ভাষা আর কোরিওগ্রাফ করা অ্যাকশনে তিনি প্রভাব ফেলেন। তবে মাঝেমধ্যে অভিনেতা শাহিদ চরিত্র ভেঙে উঁকি দেন। আর সেখানেই চরিত্রটা দর্শকের কাছে আরও মানবিক লাগে। তাঁর অভিনয়ে সোয়্যাগ থাকলেও, কখনও কখনও মনে হয় চরিত্রটির গভীরতা আরও বাড়তে পারত।
পার্শ্বচরিত্রদের জোরালো উপস্থিতি
শুধু শাহিদই নন, বরং পার্শ্বচরিত্ররা ছবিকে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। তৃপ্তি দিমরি তাঁর চরিত্রে আকর্ষণীয়। অন্যদিকে তামান্না ভাটিয়া ও দিশা পাটানি ছোট ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। নানা পাটেকর পুলিশ অফিসারের চরিত্রে ভারী উপস্থিতি দেখিয়েছেন। ফরিদা জলালের তীক্ষ্ণভাষী ঠাকুমা চরিত্রটি উস্তরাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা বড় উপাদান। বিশেষ উপস্থিতিতে বিক্রান্ত ম্যাসিও দারুণ ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
খলনায়ক ও অ্যাকশনের চমক
খলনায়ক হিসেবে অবিনাশ তিওয়ারি সত্যিই ভয়ংকর। স্প্যানিশ বুলরিংয়ে তাঁর এন্ট্রি ভিজ্যুয়ালি চমকপ্রদ। কিন্তু স্পেন ট্র্যাকের পেছনে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা মেলে না। ইন্টারভ্যালের পর মুম্বাইয়ের গণপতি বিসর্জন, লোকাল ট্রেন, আবার স্প্যানিশ হেসিয়েন্ডা একে একে স্টাইলাইজড অ্যাকশন সেট-পিসগুলো গল্পকে ছাপিয়ে যায়। ছবির আবহ তৈরি করতে গিয়ে গল্পটা যেন পিছিয়ে পড়ে।
ভরদ্বাজের সাম্প্রতিক কাজের তুলনায় ‘রোমিও’ বেশি আত্মবিশ্বাসী। তবুও Maqbool বা Kaminey-এর ধারাল প্রত্যাবর্তন এখনও অধরাই রয়ে গেল। স্টাইল, সোয়্যাগ আর শাহিদ কাপুরের অনুরাগীদের জন্য ছবিটি অবশ্যই দেখার মতো। তবে যদি একটি শক্ত গল্পের প্রত্যাশা নিয়ে যান, তাহলে খানিকটা হতাশ হতে পারেন। সবমিলিয়ে ছবিটা একবার দেখা যেতেই পারে।
রেটিং: ২.৫/৫
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
রোমিও মুভির পরিচালক কে?
ছবিটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ।
রোমিও মুভির গল্প কোথায় পাওয়া গেছে?
এই ছবির গল্প এস হুসেন জাইদির বই Mafia Queens of Mumbai থেকে অনুপ্রাণিত।
রোমিও ছবিতে শাহিদ কাপুরের চরিত্রের নাম কী?
এই ছবিতে শাহিদ কাপুর একটি ক্ষুরধার গ্যাংস্টার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার নাম উস্তরা।
রোমিও মুভির রেটিং কত?
আমাদের রিভিউ অনুযায়ী, শাহিদ কাপুরের রোমিও মুভি রিভিউ ২০২৬-তে ছবিটি ২.৫/৫ রেটিং পেয়েছে।
শাহিদ কাপুরের রোমিও ২০২৬ নিঃসন্দেহে একটি স্টাইলিশ রিভেঞ্জ ড্রামা। দৃশ্যায়ন, অভিনয় এবং সংগীত ছবির বড় শক্তি। তবে গল্পের দুর্বলতা এবং অ্যাকশনের ভিড়ে গল্প হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছবিটিকে সেরা হওয়া থেকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে। তবুও, একবার দেখে নেওয়া যেতেই পারে বিশাল ভরদ্বাজের এই নতুন জগৎ।







