খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতি: ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ডিভাইসসহ আটক ৪৯ পরীক্ষার্থী

খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতি: ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ডিভাইসসহ আটক ৪৯ পরীক্ষার্থী

রাজধানীর ঢাকা কলেজ কেন্দ্রকে ঘিরে শুক্রবার আলোচনায় আসে খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষা। সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে অনুষ্ঠিত এই খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানও এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয় এবং সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ৬ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর একে একে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নকল ও প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষার হলে অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহ বা আদান-প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

ঘটনার সময় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের এই তৎপরতা পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আটক হওয়া ৪৯ পরীক্ষার্থীকে ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখছে। এসব ডিভাইস কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের তৎপরতা বুঝতে পেরে আরও ৫ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হল থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে। তারা দৌড়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষুদ্র ইয়ারপিস, গোপন যোগাযোগ ডিভাইস এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নজরদারি রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি, প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দেশের লাখো তরুণের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই এই ধরনের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের জালিয়াতি মেধাবী প্রার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। এজন্য অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশও কঠোর নজরদারির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, সৎভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জালিয়াতি দমনে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা দরকার। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা প্রতিরোধে নতুন নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

ঢাকা কলেজ কেন্দ্রের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন এখন অনেক বেশি সতর্ক। আটক হওয়া পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আটক ৪৯ পরীক্ষার্থীকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

1 thought on “খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতি: ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ডিভাইসসহ আটক ৪৯ পরীক্ষার্থী”

Leave a Comment