মহান বিজয় দিবস রচনা | Class 6, 7, 8, SSC ও HSC পরীক্ষার্থীদের জন্য

মহান বিজয় দিবস রচনা | Class 6, 7, 8, SSC ও HSC পরীক্ষার্থীদের জন্য

সূচনা

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয় একটি দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই দিনটিতেই অর্জিত হয়েছিল বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে সগৌরবে অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন তাদের প্রিয় স্বাধীনতা অর্জন করে। আজ মহান বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। মুক্তিকামী মানুষের কাছে এই দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়, বরং এটি একটি গভীর আবেগের নাম। প্রতি বছর যখন এই দিনটি ফিরে আসে, বাঙালি জাতি পরম শ্রদ্ধায় তাদের অস্তিত্বের শেকড়কে নতুন করে উপলব্ধি করে। তাই আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে মহান বিজয় দিবস এর সুগভীর তাৎপর্য রয়েছে। প্রথম ১০০ শব্দের মাঝেই বলতে হয়, এই মহান বিজয় দিবস আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।

মহান বিজয় দিবসের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

মহান বিজয় দিবস এক দিনে বা হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বঞ্চনা ও সংগ্রামের ইতিহাস। History of Victory Day বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে অবিভক্ত ভারতবর্ষ ভেঙে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে আমাদের এই পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়, যার নাম দেওয়া হয় পূর্ব পাকিস্তান। জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব বাংলার মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, স্বাধীন দেশ পাকিস্তান লাভ করার পর প্রকৃতপক্ষে তারা স্বাধীনতার কোনো সুফল ভোগ করতে পারেনি। বাংলার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে বাদ দিয়ে কেবল ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশীদার হয়ে বাঙালিরা যে মস্ত বড় ভুল করেছিল, তা তারা খুব দ্রুতই উপলব্ধি করতে পারে।

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই নিপুণ ছলে পূর্ব বাংলাকে শোষণ করতে থাকে। তারা প্রথম আঘাত হানে আমাদের মাতৃভাষার ওপর। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে তারা উর্দুকে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এর প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে এদেশের আপামর ছাত্রজনতা। তারা দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করে, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। শুরু হয় এক দুর্বার ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা। ভাষা আন্দোলনের এই বিজয় বাঙালিদের মনে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয়।

ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালিদের এই আন্দোলন আরও বেগবান হতে থাকে। পাকিস্তানি শাসকদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালিরা সোচ্চার হতে শুরু করে। ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি এবং এগারো দফার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে সংঘটিত হয় এক ব্যাপক গণজাগরণ। পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝতে পারে, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ১৯৬৯ সালে এক সফল গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। এরপর সামরিক আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে ইয়াহিয়া খান। তীব্র গণআন্দোলনের চাপে ১৯৭০ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। সেই নির্বাচনে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাঙালি জাতি। গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ভার বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শুরু করে তাদের ষড়যন্ত্রের নীল নকশা। তারা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে।

এরপর আসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের সেই ভয়াল কালো রাত। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শুরু করে ইতিহাসের অন্যতম নির্মম গণহত্যা। কিন্তু বাঙালি জাতি এই বিপর্যয় মুখ বুজে সহ্য করেনি। Liberation War of Bangladesh শুরু হয় এই রাতেই। জল্লাদ বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাংলার দামাল ছেলেরা। শুরু হয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলে এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা—সবাই মিলে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। অবশেষে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আসে সেই সোনালি দিন। পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বাঙালি জাতি লাভ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, অর্জন করে একটি নিজস্ব মানচিত্র এবং একটি লাল-সবুজের পতাকা।

জাতীয় জীবনে বিজয় দিবসের তাৎপর্য

শুধুমাত্র একটি যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে একটি জাতি নতুন পতাকা এবং ভূখণ্ড পেয়েছে—কেবল এতটুকুর মধ্যেই মহান বিজয় দিবস এর তাৎপর্য সীমাবদ্ধ নয়। Significance of 16 December এর চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী। এই বিজয় আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল বলেই আজ বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। এই বিজয়ের ফলে জাতির মেধাবী সন্তানরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, সাহিত্য এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

স্বাধীনতার ফলেই আজ বাঙালি জাতি অত্যন্ত স্বাধীনভাবে নিজ ভাষার চর্চা এবং নিজস্ব সংস্কৃতির লালন করতে পারছে। একসময় যে জাতিকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো, বিশ্বে আজ সেই বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি আর অচেনা কেউ নয়। বরং বিশ্বকে সমৃদ্ধ করার কাজে এদেশের মানুষের রয়েছে গৌরবময় এবং প্রশংসনীয় অবদান। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি এই দিনটি আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা জোগায়। আমাদের নিজস্ব একটি সংবিধান রয়েছে, যা আমাদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সবকিছুই মহান বিজয় দিবসের এক অনস্বীকার্য ফসল।

বিজয় দিবস যেভাবে উদযাপন করা হয়

বাঙালি জাতির এই পরম আনন্দের দিনটি সারা দেশে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে থাকে। ১৬ই ডিসেম্বরের ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। সেদিন বাঙালিরা মিলিত হয় এক প্রাণের মেলায়। ভোর থেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। দেশের আপামর জনসাধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বীর শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সগৌরবে ওড়ানো হয় আমাদের অহংকারের লাল-সবুজের পতাকা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কুচকাওয়াজ, খেলাধুলা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমগুলো, যেমন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত হয় বিশেষ ক্রোড়পত্র, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় এই দিনটি পালিত হয় এবং সেখানেও আমাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজয়ের আনন্দে ভাসার পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে সেই সকল বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

আমাদের প্রত্যাশা

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ আমরা যেমনটি চেয়েছিলাম, তার পুরোপুরি এখনো আমরা অর্জন করতে পারিনি। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা রাজনৈতিক মুক্তি পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি। জনজীবনে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আসেনি।

দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে বের হলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির ভয়াল রূপ দেখে সচেতন নাগরিক মাত্রই বিস্মিত না হয়ে পারে না। স্বাধীনতাকে সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থবহ করে তুলতে হলে আমাদের সবার আগে প্রয়োজন অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের সম্পদের সুষম বণ্টন ব্যবস্থা কায়েম করা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমাদের মহান বিজয় দিবস এর মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে।

আমাদের প্রাপ্তি

অনেক না পাওয়ার হতাশা থাকলেও, স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের প্রাপ্তির খাতা কিন্তু একেবারেই শূন্য নয়। বিগত বছরগুলোতে স্বাধীন বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছে। আমাদের দেশ এখন শিক্ষা খাতে যথেষ্ট এগিয়েছে। স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে এবং দেশের বাইরেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বড় বড় সেতু, মহাসড়ক এবং মেট্রো রেলের মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়েছে। পল্লী জনপদে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। স্বাস্থ্য খাত, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সুখ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে ক্রিকেটে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন একটি উদীয়মান শক্তি। রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি ইত্যাদির পর এবার জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে নতুন পরিচিতি লাভ করছে।

উপসংহার

এক সাগর রক্ত, অসংখ্য মা-বোনের আত্মত্যাগ আর ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতা কোনো দান বা উপহার নয়, এটি আমাদের অর্জন। তাই একটি নতুন এবং স্বাধীন দেশকে প্রকৃত অর্থে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। বিশেষ করে আজকের তরুণ প্রজন্মকে এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। মহান বিজয় দিবস স্বাধীনতাকামী বাঙালির পবিত্র চেতনার এক চিরন্তন ধারক। মুক্তিযুদ্ধের সেই অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থকে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। তবেই আমরা বিশ্বদরবারে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব এবং শহিদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

Leave a Comment